লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে গুলি, ১ জনকে ধরে পুলিশে দিল স্থানীয়রা

অপরাদ চন্দ্রগঞ্জ

দিগন্তের আলো ডেস্ক:-

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলমকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পালানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সাকিব হোসেন নামের একজনকে আটক করে পুলিশে দেন। জাহাঙ্গীর আলম অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলে তাঁর বড় ভাই সাংবাদিক আব্বাছ হোসেন জানিয়েছেন।

জাহাঙ্গীর আলম আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক মেঘনার তীর পত্রিকার সম্পাদক আব্বাছ হোসেনের ছোট ভাই। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতাও করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি স্কুল থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকায় পৌঁছালে সাকিব ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী তাঁর পথ রোধ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর আলমের মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। পরে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা সাকিবকে ঘেরাও করে আটক করে পুলিশে দেন।

আব্বাছ হোসেন বলেন, সাকিবের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক কারবার নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সাকিব ও তাঁর সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তিনি সাকিবের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

স্থানীয় সাংবাদিকেরা সাকিবের বিচার ও ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাকিব হোসেন সদর উপজেলার আটিয়াতলী এলাকার সেলিম ড্রাইভারের ছেলে এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের নেতা। তাঁর একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। সাকিবের বিরুদ্ধে সদর থানাসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যা, চাঁদাবাজি, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক আইনে কয়েকটি মামলা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন সাকিব। শিক্ষার্থী হত্যা ও মাদক আইনের মামলায় দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে তিনি আবারও মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

সাকিব ও তাঁর বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে এর আগে জকসিন বাজারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রব বলেন, অভিযুক্ত সাকিবকে আটক করে সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *