দিগন্তের আলো ডেস্ক :-
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে শারমিন আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে।শ্বশুর বাড়ির লোকজন আত্মাহত্যা বলে প্রচার করলেও পরিবারের দাবি ধর্ষণের চেষ্টায় বাঁধা পেয়ে ননদের স্বামী আরিফ ও স্বপন শ্বাসরোধ করে মুক্তাকে হত্যা করেছে। মুক্তার স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে এর আগেও একাধিকবার আরিফ ও স্বপন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে। পরে বিষয়টি পারিবারিক ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে। মৃত মুক্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ছিন্ন রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই মুক্তার মৃতদেহ রেখে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মগোপনে রয়েছে।
বুধবার (০৩ জুন) দিবাগত রাতে কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ‘জামালের বাপের বাড়িতে’ এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মুক্তা একই বাড়ির নিজাম উদ্দিনের প্রবাসী ছেলে হাসানের স্ত্রী ও সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চর উভতি গ্রামের বাহার মিয়ার মেয়ে। তাদের ঘরে তামান্না নামের দুই বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
নিহতের বাবা বাহার ও স্বজনরা জানান, সাড়ে তিন বছর আগে হাসানের সাথে মুক্তার বিয়ে হয়। এরপর জীবিকার তাগিদে হাসান সৌদি আরব চলে যান।স্বামী প্রবাসে থাকার সুবাদে মুক্তার ননদের স্বামী স্বপন তাকে কুপ্রস্তাব দিত এবং উত্যক্ত করতো।
মুক্তা বিষয়টি সবাইকে জানালে দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজন স্বপনকে কঠোরভাবে সতর্ক করে দেয়।
ঘটনার দিন বিয়ের অনুষ্ঠানে এসে আরিফ ও স্বজন রাত্রীযাপন করে মৃত মুক্তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে। অনৈতিক কাজে বাঁধা দিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মুক্তার বাবাকে আত্মহত্যা করেছে জানিয়ে
আরিফ ও স্বপন মুক্তার মৃত দেহ বারান্দায় রেখে তারা সহ শ্বশুরবাড়ির সবাই আত্মগোপনে চলে যায়।
এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে সুষ্ঠু বিচরের দাবি করেন তারা।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। মরদেহের গলায় ও শরীরে আঘাতের বিষয়সহ সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।