ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চেয়ে ছাত্রদল কর্মীর ‘আত্মহত্যা’, দায়ী করলেন কাদের

অপরাদ সদর

দিগন্তের আলো ডেস্ক :-

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ এলাকায় ফেসবুকে লাইভে এসে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক নানা বিষয়ে কষ্টের কথা তুলে ধরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন শাহরিয়ার তানভীর নামে এক ছাত্রদল কর্মী।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এসব অভিযোগ করেন তিনি। ফেসবুক লাইভে তিনি নিজেকে মৃত্যু পথের যাত্রী বলে জানান। লাইভ শেষ করার কিছুক্ষণ পর বিষপান করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শাহরিয়ার তানভীর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বায়েজিদ হোসেন ভূঁইয়ার ছোট ভাই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মাদকসংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই মানসিক টানাপোড়েনে ভুগছিলেন শাহরিয়ার তানভীর। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ফেসবুক লাইভে এসে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় তুলে ধরে নিজের কষ্ট প্রকাশ করেন।

লাইভে শাহরিয়ার তানভীর বলেন, ভবানীগঞ্জের রাজনীতিটা আসলে খুবই নোংরা আর প্রতিহিংসাপূর্ণ হয়ে গেছে। এতটাই খারাপ যে, ৫ আগস্টের পর থেকেই একটা মহল এই রাজনীতিকে পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা কামাই করছে। অথচ আমাদের মতো ত্যাগী কর্মীরা কখনো কারো কাছে চাঁদা চাইনি, কখনো কারো জমি দখল করতে যাইনি, কখনো সালিশ বাণিজ্যে জড়াইনি। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে—এইটা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা নোংরামিতে যাওয়ার কথা না।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমি কোনো পোস্ট বা পদ-পদবি ছাড়াই রাজনীতি করেছি। চুরশত বাজার এলাকায় বহুবার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। সালাউদ্দিন টিপু, রাসেলসহ অনেকে আমাকে মারধর করেছে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টাও করেছে। তবে মোজাম্মেল কাকা ও ইব্রাহিম কাকাসহ কয়েকজন আমাকে রক্ষা করেছেন।

শাহরিয়ার তানভীর অভিযোগ করেন, ওই পক্ষের লোকজন এখনো এলাকায় এসে নিয়মিত ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। আগে যাদের নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল, তাদের দিয়েই আবার এসব করানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি একাধিকবার একা দাঁড়িয়ে বলেছি—এসব আমাদের এলাকায় চলবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি যদি মিথ্যা বলে থাকি আমি একজন মৃত্যুপথযাত্রী মানুষ আল্লাহ যেন আমাকে মাফ না করেন।’

এ বিষয়ে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এসএম আজাদ বলেন, ‘তানভীর আমাদের ছাত্রদলের কর্মী ছিল। তার মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে কী কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।’

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘ছাত্রদল কর্মী তানভীর বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে। লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *