পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে অঝোরে কাঁদলেন যুবদল নেতা

লক্ষ্মীপুর

দিগন্তের আলো ডেস্ক :-

লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে পদ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের লাইভে এসে কাঁদলেন সংগঠনটির সাবেক এক নেতা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। তাঁর এ ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তিনি পদ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সাবেক ওই নেতার নাম সুমন চৌধুরী। তিনি লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন। গতকাল বিকেলে জেলা যুবদলের নতুন ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আবদুল আলিম হ‌ুমায়ূনকে সভাপতি, সৈকত রশিদুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্ব) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সুমন চৌধুরী এ কমিটিতে পদপ্রত্যাশী ছিলেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ভিডিওটি ১০ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের। এতে সুমন চৌধুরীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কী অপরাধ করেছি। লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলের সদস্য হতে পারিনি। কোথায় ভুল করেছি? কোথায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম করেছি? লক্ষ্মীপুর জেলা যুবদলকে এর জবাব দিতে হবে। আন্দোলন সংগ্রামে আমি রাজপথে ছিলাম। ১৭ বছর বাড়িতে ঘুমাতে পারিনি।’

এ-ই বিষয়ে জানতে চাইলে সুমন চৌধুরী বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজপথে থেকেছি, দলের জন্য সময়-শ্রম দিয়েছি। আমার ত্যাগের কথা নেতারাও জানে। কিন্তু জেলা যুবদলের নতুন কমিটিতে আমাকে কোনো স্থান দেওয়া হয়নি। কমিটিতে এমন ব্যক্তিদের স্থান হয়েছে, যারা গত ১৭ বছর নিষ্ক্রিয় ছিলেন। রামগঞ্জ উপজেলা থেকে এমন একজনকেও কমিটিতে রাখা হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন।’

এ সম্পর্কে জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলিম হ‌ুমায়ূন বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। জেলায় এমন অন্তত এক হাজার যোগ্য ও ত্যাগী নেতা রয়েছেন, যাঁরা যুবদলের কমিটিতে স্থান পাওয়ার সক্ষমতা রাখেন। তাঁরা গত ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তবে জেলা যুবদলের কমিটি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট হওয়ায় অনেক যোগ্য নেতা–কর্মীকেই কমিটির বাইরে রাখতে হয়েছে। সুমন চৌধুরীর বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছি। কেন্দ্রের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *