পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জনকে আসামী করে পৃথক মামলা আটক ১

আইন আদালত রায়পুর

দিগন্তের আলো ডেস্ক :-

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গভীর রাতে অটোরিকশা চোর আটককে কেন্দ্র করে পুলিশ এবং এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চার পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছে। এতে ১০জনের নাম উল্ল্যাখসহ ৫০জনকে আসামী করা হয়। এঘটনায় হৃদয় নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন মিয়া।

ওসি জানায়, পুলিশের কাজে বাধা ও আহতের ঘটনায় রাতেই পুলিশের উপরিদর্শক আহসান হাবিব বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্যোখসহ ৫০ ও সহকারী উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বাদী হয়ে অটোরিকশা চুরির ঘটনায় ৪জনকে আসামী করে পৃথক মামলা করেন। হৃদয় নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ির শাহ আলম তার অটোরিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। এতে তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে ৪ জন সন্দেহভাজন চোরকে আটক করেন। অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও চোরেরা ব্যাটারিগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এতে অভিযুক্তদের বাড়িতে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ ও ব্যাটারির জন্য মারধর করে লোকজন।
রাত সাড়ে ৮ টার দিকে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যাটারি না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছাড়বে না বলে জানায় এলাকাবাসী। এনিয়ে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে হামলা-মারামারির ঘটনা ঘটে। এসময় রায়পুর থানা পুলিশের মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহত পুলিশ সদস্যদেরকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলে এলাকাবাসী লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়কের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা অবরোধ করে রাখে। এসময় সড়কের দুই পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

এদিকে স্থানীয়রা দাবী করেন ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য চোরদের আটক রাখা হলে পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ৯৯৯-এর তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের মোবাইল টিম ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত চার জনকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তখন পেছন থেকে ২০-৩০ জন এলাকাবাসী ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে এক এসআইসহ ৪ জন পুলিশ আহত হয়। স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করলে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *