দিগন্তের আলো ডেস্ক :-
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলেও লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের মাঝে ফরম বিতরণ শুরু করেছে। এতে প্রতিটি ফরমের জন্য ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ফরম জমা দেওয়ার সময় ১০ হাজার টাকা নেওয়া হবে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ টাকা দিতে আগ্রহী নয় অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ফেসবুকেও সমালোচনামূলক পোস্ট দিচ্ছেন অনেকে।
এদিকে ফরম বিতরণ ও জমাদানে কোনো টাকা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ফরম বিতরণ কমিটির দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জহিরুল ইসলাম। তবে ফরম বিতরণের বিষয় কিছুই জানেন বলে জানিয়েছেন কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক দিদার হোসেন। যদিও একাধিক ছবিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের হাতে ফরম তুলে দিতে দেখা গেছে এ দুই শীর্ষ নেতাকে। ওই ফরমের নমুনা কপিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অন্যদিকে কমলনগর উপজেলা বিএনপির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দিদার হোসেন ফরম বিতরণ নিয়ে পোস্ট করেন। পোস্টটির স্কিনশর্ট প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এতে লেখা ছিলো- ‘বিশেষ বিজ্ঞপ্তি- কমলনগর উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যারা কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান অথবা মেম্বার পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, তাদের ৭ মার্চের মধ্যে কমলনগর উপজেলা বিএনপির দপ্তর থেকে ফরম সংগ্রহ করে উপজেলা বিএনপির দপ্তরে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত জহিরুল ইসলাম ও এমরান হোসেন মুরাদ। অনুরোধক্রমে- সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন, কমলনগর উপজেলা বিএনপি।
এ ঘটনায় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জহিরুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘১ মার্চ (রোববার) হতে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চর কালকিনি ইউনিয়ন থেকে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন (৯টি ইউনিয়ন) নেতাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, যারা ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন অর্থাৎ মেম্বার ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে চান তারা ৭ মার্চ পর্যন্ত দলীয় কার্যালয় থেকে ফরম গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। অনুরোধক্রমে উপজেলা বিএনপি’।
তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহিদ বলেন, তোরাবগঞ্জ থেকে আমিসহ ৬ জন ফরম সংগ্রহ করেছি। এতে ফরমের জন্য ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে জমা দিতে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। ১০ হাজার টাকা দিতে হলে আমি জমা দেবো না। ৭ মার্চ ফরম জমা দেওয়ার জন্য শেষ দিন ছিল। কিন্তু শুনছি ১২ মার্চ শেষ দিন ফরম জমা দেওয়ার।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাফর আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফরমের জন্য ৫০০ টাকা নিয়েছে। ফরম জমা দেওয়ার সময় টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে দপ্তরের দায়িত্ব জহির বলেছেন সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে। আমি তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় ফরম সংগ্রহ করেছি।
উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আখতার মাহমুদ বলেন, চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী হতে আমি ৫০০ টাকা দিয়ে ফরম সংগ্রহ করেছি। এটি উপজেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত বলে জানি।
হাজিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আমজাদ হোসেন ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লেখেন, কমলনগরে বিএনপির চেয়ারম্যান ফরম ৫শ’ ও জমাদান ১০ হাজার। বিষয়টি তিনি মুঠোফোনে স্বীকার করেছেন।
ফরম বিতরণে দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ফরম বিক্রি করছি না, বিতরণ করছি।
ফরম জমা দিতে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সভাপতি ভালো বলতে পারবেন। এখন পর্যন্ত ১৫টি ফরম বিতরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন জানায়, তারা এলাকাতে নেই। ফরম বিতরণের বিষয়ে কোনো কিছু তারা জানেন না। এ ধরণের কথা তারা শোনেননি। খবর নিয়ে জানাবেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান বলেন, কমলনগরে ফরম বিতরণের ঘটনা দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত না। এটি উপজেলা বিএনপির নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তারা হয়তো এগিয়ে রাখার জন্য ফরম বিতরণ করছে। টাকা নেওয়ার বিষয়টি জানা নেই।