দিগন্তের আলো ডেস্ক:-
বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্ত্রী হওয়ার খবরে দলের নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত আলাদাভাবে নেতাকর্মীদেরকে শহরে মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে। এসময় তারা আনন্দ প্রকাশ করেন।
এ্যানি চৌধুরী এ নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ৩ বারের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তবে তিনি কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিকেলে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহবাজ মাহমুদ চৌধুরী জিদান নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের হাসপাতাল সড়কে জনসাধারণের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন। রাতে যুবদলের নেতাকর্মীদেরকে শহরের উপকণ্ঠে মিষ্টি বিতরণ করেন।
ছাত্রদল নেতা ও চন্দ্রগঞ্জ থানা ছাত্রদলের আহবায়ক জাহের ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, এ্যানি চৌধুরী লক্ষ্মীপুরের গর্ব। ছাত্র রাজনীতি থেকে তিনি এখন বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রী। এ গৌরব শুধু বিএনপির নয়, লক্ষ্মীপুরসহ পুরো দেশের গৌরব। তার হাত ধরে লক্ষ্মীপুরে আমূল উন্নয়ন হবে। তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক জোন হিসেবে লক্ষ্মীপুরকে ঢেলে সাজাবেন বলে আমরা আশাবাদী।
দলীয় সূত্র জানায়, এ্যানি চৌধুরি লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে ২০০১ সালে প্রথম ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান লক্ষ্মীপুরে মূসার খাল খনন কর্মসূচিতে আসেন। তখন স্কুলজীবন থেকেই এ্যানি চৌধুরী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৩ সালে তিনি ঢাকা তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য হন। পরে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের সদস্য, ১৯৮৭ সালে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, ১৯৮৮ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে তিনি জিয়াউর রহমান হল ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন।
১৯৯০ সালে তিনি সর্বোচ্চ ভোটে ডাকসুর সদস্য নির্বাচিত হন এবং ৩ বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ডাকসুর ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ডাকসুর ভারপ্রাপ্ত ভিপি ও ভারপ্রাপ্ত সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও ১৯৯৩-১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন। ১৯৯৬-১৯৯৮ সালে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।
জানা গেছে, অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি হয়ে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তাকে বিএনপির প্রচার সম্পাদক করা হয়। তিনি বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সমন্বয়ক, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১০ সালে তিনি এই দলের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সভায় প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ্যানি চৌধুরী।